পোস্টগুলি

সূধীজন

ছবি
  সূধীজন সম্মানিত মানুষেরা, সাধারণের থেকে স্বভাবতই উচুঁতে, তাহাদের সম্ভ্রম পান থেকে চুন খসলেই ধুলোয় মিশাবে। তবে তো বুঝে নিতে হবে সমাজের সম্মানিত নামগুলো যতই শক্ত ততই দুর্বল এর ভিত্তি প্রস্তর। আহা! বরই রিক্ত এরা! দরিদ্র হইতেও হত দরিদ্র এরা। আমার সমাজে ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র সবাই বসবাসকারী। শক্ত-সামর্থ্য পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ আর নারী। ধনী কাকে বলবে? যার আছে বিত্ত বৈভব আর সম্পদের পাহাড় চূড়া? আমি তো তাকে ধনী বলতে শিখিনি, নিঃস্ব এরা। অন্তরের কালীমা দিয়ে অর্থের প্রতাপে এদের বর্বরতার মিশেল তার চেয়ে শুভ্র হৃদয়ের শ’টাকার কামলাও ধনী ঢের। আমি তো, অর্থলোভী, অহংকারীদের ক্ষুদ্র মানসিকতায় চিন্তিত, এরা নিজেকে আত্মসাৎ করেছে , এখন পর কে লোলুভ থাবায় করবে পীড়িত। এরাতো নিজ পরিচয়ের দম্ভে পারেনা কাঁদামাটিতে হাঁটতে, সমাজে এদের সম্মান ভয়গ্রস্ত রুগ্ন মনের স্বার্থে। এরা হোঁচট খায় আলোক রশ্মির বর্ণছটা দেখে, তাদের চোখে অন্ধত্ব নেমে আসে, জ্ঞানের ঐশ্বর্যে। আমি তো, ধনী বলি তাকে, যার অন্তরে নাই প্রতিহিংসার অনল, যে আত্মতুষ্ট, সম্মানের ভূয়া মুখোশের সামনেও নির্ভীক, অটল। যাকে সহজে খুঁজে পাবে না এত রকমের লোকের ভীড়ে, যে নীরবে ব...

শপথ

ছবি
  শপথ মৃ্ত্যুকে করিনা ভয়, আমি যে মুত্যুঞ্জয়, অবরোধ, অনশন, কতশত অনিয়ম সংঘাত কুপোকাত, হতেই হবে জয়। তুলে দাও ঘৃণার দেয়াল, শক্ত ধারালো কবাট, রক্তাক্ত, বুভুক্ষ শ্বেত পেয়ালার নরপুংসক কয়, জানি  না কি পরাজয়, আমি যে  দিগ্বীজয়। কয়বার মরণ হবে, অশনীর বিভীষিকাময় রাত কতবার পেরিয়ে যাবে ছটফট করবে তোমার মুক্তি ভিখারী হৃদয়! জীবনের হয় যদি ক্ষয় ভেঙে যায় প্রাণের আলয়। ভয় করিনা সংশয়, আমি যে সবিস্ময়। আমারো আবেগ আছে, আমারো স্বপ্ন জন্মায়, আমি সমর, আমি ভীষণ, আমি নই অসহায়। মৃত্যুকে করি না ভয় আমি যে মৃত্যুঞ্জয়। রচনা: শাম্মী আক্তার (মনোবিদ) রচনাকাল: ২০.০১.২০১২

বিশ্ব সংসার

ছবি
  বিশ্ব সংসার এনে দিয়াছে যে আমারে এই বিশ্ব সংসারে উস্মুক্ত সম্ভারে। দিয়াছে মোরে নিত্য সুখ উন্মুখ গৃহ দ্বারে। পর্বতসম অনুরাগের ভার দিয়াছে মোরে ভূষণ যাহার জানি আমি সে তো এক নিরাকার, ভরেছে মোরে বসন্ত মালার। সন্ধ্যা মালতী ফুরালে এ বেলা ভেসে আসে রাগে আযানের ধ্বনি সুমহান তাহার আত্মপ্রকাশ আনিয়াছে যে মোরে বিশ্ব সংসারে দিয়া মাতা-পিতা, স্নেহ ভাই-ভ্রাতা করিয়াছে মোরে মণনে বিকাশ। সমুদ্রঅধিক মান করুণার  রয়ে যায় বাকি জানার বুঝার বিশ্ব ভুবনে ধরিত্রীর দান রাখিয়াছে যে মোরে প্রেম ডোরে বাধিঁ সর্ব জগতে অমর সে প্রাণ। তার তরে জানাই স্তুতি ভক্তির বিজয়োল্লাসে প্রীত মুক্তির দানিয়াছে মোরে প্রাণ শক্তির এই বিশ্ব সংসারে; আনিয়াছে যে মোরে। আনিয়াছে মোরে পবিত্র করে হইতে পারিত পঙ্কিল জন্ম, হইতে পারিত অনাহুত কর্ম। দিয়াছ উদার হস্তের অকৃত্রিম বর্ম। এই জীবনভারে, ভিখারীর প্রতি দাও মৌন রহমত এই এক পথে, আমারে লইতে দাও আজন্ম কারণে প্রতিকারে দ্যুতিময় সার্থক আবরণে আনিয়াছে যে মোরে এই বিশ্ব সংসারে প্রতিপালিত আমি তাহার আশীষে। রচনা: শাম্মী আক্তার ( মনোবিদ) রচনাকাল ০৩.০১.২০১২

অগণিত গুপ্তধন সমৃদ্ধ সত্ত্বা

ছবি
আমরা অনেকেই আমাদের ভেতরকার গুণগুলো সম্পর্কে জানিনা। আমাদের মনের ভেতরে যে অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অপ্রতিরোধ্য কল্পনাশক্তি আর অগাধ ভালোবাসা আছে তা নিজেদেরই জানা নাই। ঐ ইচ্ছাশক্তি, ঐ কল্পনাশক্তি আর ঐ অগাধ ভালোবাসা যারা নিজের মধ্যে টের পায় বা আবিষ্কার করতে পারে, সে তখন নিজেকে আলোকিত করতে শুরু করে, আর সেই আলোতে অন্যরাও আলোকিত হতে থাকে। ডঃ জোসেফ মারফি একজন বিখ্যাত মনোবিদ, উনার মতে একটি চৌম্বকত্ব অর্জনকারী লোহা আরও অনেক লোহার টুকরাকে আকর্ষণ শক্তির বলে তুলে ফেলতে সক্ষম। কিন্তু যদি ঐ লোহার টুকরা কে যদি চৌম্বকত্ব হারিয়ে রেখে দেয়া হয় তাহলে সে একটা পালকও তুলতে পারেনা। এভাবেই আমাদের দেখা মতে, অনেক চৌম্বকশালী মানুষ আছে যারা জীবনের যুদ্ধগুলোর (না পাওয়া, না হওয়া, হেরে যাওয়া) মুখমুখি হয় অনেক আত্মবিশ্বাস আর মানসিক শক্তি নিয়ে। আবার অনেকেই আছি যারা চৌম্বকহীন লোহার মত ঐ যুদ্ধের মুখোমুখি হই দুর্বলতা আর নেতিবাচক চিন্তা নিয়ে। জীবনে যখন কোন সুযোগ সামনে আসে তখন তারা দ্বিধান্বিত হয়ে যায়। আর ভাবতে থাকে অন্যরা কি বলছে, কি ভাবছে, আমি তো পারিনি, আর পারবো না। এরকম চিন্তারা মনের ভিতরে ভিড় করে কারণ নিজের মনের শক্তি সম্পর্কে ...

তরুণ তোমার জন্য

ছবি
একজন ছাত্র বা ছাত্রী হিসেবে কিংবা সর্বোপরি এই দেশের একজন সুনাগরিক হিসেবে আপনি কি আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন? আপনি হয়ত একজন তরুণ বা তরুণী, আপনার অদম্য প্রাণশক্তি ও সৃষ্টিশীলতা এই দেশকে অপ-সংস্কৃতি, অপ-রাজনীতি ও অমানবিক বাঁধা থেকে মুক্ত করতে পারে। আমাদের কি করার দরকার ছিল? আর আমরা কি করছি? দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যয়নকারী হিসেবে, শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন ই আমাদের মূল লক্ষ্য নয়। শুধুমাত্র আড্ডাবাজী করাই আমাদের বিনোদন নয়। বসে বসে হা-হুতাশ করাই আমাদের কাজ নয়। আমরা বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশুনা করতে পারি, নিজে যতটুকু জানি তা নিয়ে আলোচনা বা পরামর্শ করতে পারি। আমরা বিভিন্ন গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারি। আমরা আমাদের আচরণে ও চিন্তায় আমূল পরিবর্তন আনতে পারি, যা এই দেশকে ভয়াবহ ধ্বংস ও বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে। আসুন আমরা আজকে শপথ করি নিজের ভুল আচরণগুলো শুধরে নিয়ে, যা কিছু মঙ্গলজনক সেই চর্চা বৃদ্ধি করি। আসুন যে আচরণের মাধ্যমে আসলেই একজন মানুষ হিসেবে আমি সন্তুষ্টবোধ করব সেই আচরণগুলো আরও বেশি বেশি রপ্ত করি। (নিচের উদাহরণ আমার অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরেছি, কাউকে ইঙ্গিত বা আঘাত ক...

'মা' আপনি কেমন আছেন

ছবি
জীবন এর অনেক বড় ও আনন্দঘন প্রাপ্তি হয় মাতৃত্ব অর্জনের মাধ্যমে। এই করোনা পরিস্থিতিতে পরিবারে আর ঘরে সন্তানের সাথে কাটছে ব্যস্ত সময়।  তাই নেই যেন নিশ্বাস নেয়ারও সময়। কি বিশ্রাম আর ঘুম। স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়াতে মাকেই নিতে হয়েছে স্কুল শিক্ষক এর দায়িত্ব।  একটু নিজের জন্য ভাবনার সময় হবে কি আপনার? ছেলেটি বা মেয়েটি কে একটু নিজের খেলা খেলতে দিয়ে কাউকে তার নজরদারিতে রেখে দিন কিছুক্ষণ। আসুন একটু শান্ত হয়ে বসুন। বেশী অস্থিরতা থাকলে একটু চোখ মুখে পানি ঝাপটা দিন। একটু হেলান দিয়ে বসে আলতো করে চুল টা মেলে দিন। একটু নিজের কপালের ঘামটা মুছে নিয়ে স্বস্তি নিয়ে হাসুন। একটু জিরিয়ে নিন। বড় একটা নিঃশ্বাস নিন। কিছুক্ষণ চোখ খুলে আয়নাতে নিজেকে একটু দেখুন। কেমন আছেন আপনি। আপনার পছন্দের কোন গান কি মনে মনে গাইতে ইচ্ছা করছে? একটু গুন গুন করে গেয়ে নিন দেখি। নিজের কোন যত্নের কাজ করতে মন চাইছে, এই যেমন একটু হাতের নখ কাটা, পা টা কে একটু যত্ন নেয়া, বা একটু হাল্কা ব্যায়াম। কুসুম গরম বা এই গরমে কলের পানিতে গা ভিজিয়ে একটু শান্ত গোসল করা। মা কিছু মুহূর্ত মনটা নিজের কাছেই রাখুন। চুলায় কি বসাবেন, কাজ কি বাকি, ছেলের ...

'​'আত্ম-বিশ্লেষণ'​'​- একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযাত্রা

ছবি
'​'আত্ম-বিশ্লেষণ'​'​- একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযাত্রা আমরা প্রত্যেকটা মানুষ ই প্রতিদিন নতুন নতুন অনেক কিছু জানছি, দেখছি, শিখছি। যে আচরণগুলো ছোট বেলায় করতে অভ্যস্ত ছিলাম কিংবা করতে অনুপ্রেরণা পেয়েছি সেই রকম অনেক আচরণ কিন্তু আমরা চট করে বদলাতে পারি না। যেমন একটা ছেলে হয়ত খুব জেদি, তার জেদের জন্য পরিবারের সবাইকে খুব তটস্থ থাকতে হয়। পরবর্তীতে সে যদি এটা বদলাতে চায় তখন এটা প্রকাশের ভঙ্গি বদলানো যাবে কিন্তু আচরণটা বা ঐ তীব্র অনুভূতিটা থেকে যায়। তবে সবার ক্ষেত্রে নয়। অনেকের ক্ষেত্রে হয়ত অনুভূতিটাও পরিবর্তিত হতে পারে। আমাদের আচরণের ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য Transactional Analysis ( এটাকে Transcriptional Analysis বললে বেশী ভাল হত) অনেক অভিনব একটি থিওরি। আমাদের জীবনের যে Script বা অনুলেখনী নিয়ে আমরা চলছি তা মূলত ছোটবেলাতেই গঠন হয়ে যায়। এটা অনেকটা জিনগত গঠনের মত। আমাদের জিনমগুলো যেমন কোষের বিন্যাসের সাথে সাথে কার শারীরিক বৈশিষ্ট্য কেমন হবে তা প্রকাশ করে তেমনি ব্যক্তিত্বের ধরণ কার কেমন হবে তা ঐ Script এর মাধ্যমে শৈশবেই গঠিত হয়ে যায়। যদি কোন ব্যক্তির শৈশবকালকে বিশ্লেষণ করা যায় তাহলে ঐ ...