তরুণ তোমার জন্য
একজন ছাত্র বা ছাত্রী হিসেবে কিংবা সর্বোপরি এই দেশের একজন সুনাগরিক হিসেবে আপনি কি আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন? আপনি হয়ত একজন তরুণ বা তরুণী, আপনার অদম্য প্রাণশক্তি ও সৃষ্টিশীলতা এই দেশকে অপ-সংস্কৃতি, অপ-রাজনীতি ও অমানবিক বাঁধা থেকে মুক্ত করতে পারে।
আমাদের কি করার দরকার ছিল? আর আমরা কি করছি? দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যয়নকারী হিসেবে, শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন ই আমাদের মূল লক্ষ্য নয়। শুধুমাত্র আড্ডাবাজী করাই আমাদের বিনোদন নয়। বসে বসে হা-হুতাশ করাই আমাদের কাজ নয়। আমরা বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশুনা করতে পারি, নিজে যতটুকু জানি তা নিয়ে আলোচনা বা পরামর্শ করতে পারি। আমরা বিভিন্ন গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারি। আমরা আমাদের আচরণে ও চিন্তায় আমূল পরিবর্তন আনতে পারি, যা এই দেশকে ভয়াবহ ধ্বংস ও বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে।
আসুন আমরা আজকে শপথ করি নিজের ভুল আচরণগুলো শুধরে নিয়ে, যা কিছু মঙ্গলজনক সেই চর্চা বৃদ্ধি করি। আসুন যে আচরণের মাধ্যমে আসলেই একজন মানুষ হিসেবে আমি সন্তুষ্টবোধ করব সেই আচরণগুলো আরও বেশি বেশি রপ্ত করি। (নিচের উদাহরণ আমার অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরেছি, কাউকে ইঙ্গিত বা আঘাত করার উদ্দেশে নয়)
যেমন-
১। সময়ের কাজটা সময়ে করে ফেলা, পরে করব ভেবে ফেলে না রাখা।
২। বন্ধুদের সাথে চায়ের টেবিলে ইতিহাস, ব্যবসা-বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক উন্নয়নের বা সম্ভাবনার আলোচনা করা।
৩।নিজের সৃষ্টিশীল চিন্তাগুলোকে লিখে রাখা ও পরবর্তীতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা।
৪। নাগরিক হিসেবে আইন মেনে চলা, নিজের চলাফেরা করার পরিবেশটাকে পরিচ্ছন্ন রাখা, যেখানে সেখানে থুথু ও ময়লা আবর্জনা না ফেলা।
৫। দাম্ভিকতা এড়িয়ে অমায়িক ভাবে ও দৃপ্ততার সাথে পথচলা। হাঁটতে গিয়ে কাউকে ধাক্কা না দেয়া।
৬। রাস্তার মাঝখানে জটলা না করা, কারো সাথে কথা বলতে গিয়ে অন্য পথচারীদের জায়গা দিয়ে দাঁড়ানো।
৭। শালীন ভাষায় কথা বলা, অশালীন বা অযোচিত বক্তব্য না দেয়া। মনে রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় সমগ্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রতিনিধিত্ব করছে। তাই আমরাও অন্যদের প্রতিনিধি। আমার একটা বাজে শব্দ, অনেকের কাছে ভুল শিক্ষা হয়ে থাকতে পারে।
৮। কারো সাথে বিতর্ক হলে, যুক্তি প্রয়োগ করে সেটা সমাধান করা, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তর্ক না করা।
৯। নিজের মন ও মানসিকতার যত্ন নেয়া। যেন আমার অসুস্থ মনের আক্রমণের শিকার অন্য কেউ না হয় সেজন্য নিজের মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা করা। নিজ সংকীর্ণতাগুলো স্বীকার করে সংশোধন করা।
এভাবে আর ইতিবাচক আচরণের অনুশীলন বাড়িয়ে একজন নাগরিক ও ছাত্রছাত্রী হিসেবে আমরা পারি মাথা উঁচু করে শক্ত পায়ে দাঁড়াতে। সেই সাথে নিজেকে সমৃদ্ধ করে নিজ দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে। এটা একটা ছোট প্রয়াস বা পরিবর্তন মাত্র। আসুন আমরা বিন্দু থেকে সিন্ধু হই। আমরা আমাদের অপ্রত্যাশিত আচরণগুলো একটা একটা করে ইতিবাচক আচরণে রুপান্তরিত করি। আসুন না বর্তমানকে গুরুত্ব দিয়ে আজকে থেকেই কাজে নেমে পরি।
আসুন আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে সু আচরনে আলোকিত করি।
লেখা-
শাম্মী আক্তার
একজন প্রাক্তন অধ্যয়নকারী
(জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
আমাদের কি করার দরকার ছিল? আর আমরা কি করছি? দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যয়নকারী হিসেবে, শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন ই আমাদের মূল লক্ষ্য নয়। শুধুমাত্র আড্ডাবাজী করাই আমাদের বিনোদন নয়। বসে বসে হা-হুতাশ করাই আমাদের কাজ নয়। আমরা বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশুনা করতে পারি, নিজে যতটুকু জানি তা নিয়ে আলোচনা বা পরামর্শ করতে পারি। আমরা বিভিন্ন গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারি। আমরা আমাদের আচরণে ও চিন্তায় আমূল পরিবর্তন আনতে পারি, যা এই দেশকে ভয়াবহ ধ্বংস ও বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে।
আসুন আমরা আজকে শপথ করি নিজের ভুল আচরণগুলো শুধরে নিয়ে, যা কিছু মঙ্গলজনক সেই চর্চা বৃদ্ধি করি। আসুন যে আচরণের মাধ্যমে আসলেই একজন মানুষ হিসেবে আমি সন্তুষ্টবোধ করব সেই আচরণগুলো আরও বেশি বেশি রপ্ত করি। (নিচের উদাহরণ আমার অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরেছি, কাউকে ইঙ্গিত বা আঘাত করার উদ্দেশে নয়)
যেমন-
১। সময়ের কাজটা সময়ে করে ফেলা, পরে করব ভেবে ফেলে না রাখা।
২। বন্ধুদের সাথে চায়ের টেবিলে ইতিহাস, ব্যবসা-বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক উন্নয়নের বা সম্ভাবনার আলোচনা করা।
৩।নিজের সৃষ্টিশীল চিন্তাগুলোকে লিখে রাখা ও পরবর্তীতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা।
৪। নাগরিক হিসেবে আইন মেনে চলা, নিজের চলাফেরা করার পরিবেশটাকে পরিচ্ছন্ন রাখা, যেখানে সেখানে থুথু ও ময়লা আবর্জনা না ফেলা।
৫। দাম্ভিকতা এড়িয়ে অমায়িক ভাবে ও দৃপ্ততার সাথে পথচলা। হাঁটতে গিয়ে কাউকে ধাক্কা না দেয়া।
৬। রাস্তার মাঝখানে জটলা না করা, কারো সাথে কথা বলতে গিয়ে অন্য পথচারীদের জায়গা দিয়ে দাঁড়ানো।
৭। শালীন ভাষায় কথা বলা, অশালীন বা অযোচিত বক্তব্য না দেয়া। মনে রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় সমগ্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রতিনিধিত্ব করছে। তাই আমরাও অন্যদের প্রতিনিধি। আমার একটা বাজে শব্দ, অনেকের কাছে ভুল শিক্ষা হয়ে থাকতে পারে।
৮। কারো সাথে বিতর্ক হলে, যুক্তি প্রয়োগ করে সেটা সমাধান করা, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তর্ক না করা।
৯। নিজের মন ও মানসিকতার যত্ন নেয়া। যেন আমার অসুস্থ মনের আক্রমণের শিকার অন্য কেউ না হয় সেজন্য নিজের মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা করা। নিজ সংকীর্ণতাগুলো স্বীকার করে সংশোধন করা।
এভাবে আর ইতিবাচক আচরণের অনুশীলন বাড়িয়ে একজন নাগরিক ও ছাত্রছাত্রী হিসেবে আমরা পারি মাথা উঁচু করে শক্ত পায়ে দাঁড়াতে। সেই সাথে নিজেকে সমৃদ্ধ করে নিজ দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে। এটা একটা ছোট প্রয়াস বা পরিবর্তন মাত্র। আসুন আমরা বিন্দু থেকে সিন্ধু হই। আমরা আমাদের অপ্রত্যাশিত আচরণগুলো একটা একটা করে ইতিবাচক আচরণে রুপান্তরিত করি। আসুন না বর্তমানকে গুরুত্ব দিয়ে আজকে থেকেই কাজে নেমে পরি।
আসুন আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে সু আচরনে আলোকিত করি।
লেখা-
শাম্মী আক্তার
একজন প্রাক্তন অধ্যয়নকারী
(জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন