সূধীজন



 সূধীজন

সম্মানিত মানুষেরা, সাধারণের থেকে স্বভাবতই উচুঁতে,

তাহাদের সম্ভ্রম পান থেকে চুন খসলেই ধুলোয় মিশাবে। তবে তো বুঝে নিতে হবে সমাজের

সম্মানিত নামগুলো যতই শক্ত

ততই দুর্বল এর ভিত্তি প্রস্তর।

আহা! বরই রিক্ত এরা!

দরিদ্র হইতেও হত দরিদ্র এরা।


আমার সমাজে ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র সবাই বসবাসকারী।

শক্ত-সামর্থ্য পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ আর নারী।

ধনী কাকে বলবে? যার আছে বিত্ত বৈভব আর সম্পদের পাহাড় চূড়া?

আমি তো তাকে ধনী বলতে শিখিনি, নিঃস্ব এরা।

অন্তরের কালীমা দিয়ে অর্থের প্রতাপে এদের বর্বরতার মিশেল

তার চেয়ে শুভ্র হৃদয়ের শ’টাকার কামলাও ধনী ঢের।


আমি তো, অর্থলোভী, অহংকারীদের ক্ষুদ্র মানসিকতায় চিন্তিত,

এরা নিজেকে আত্মসাৎ করেছে , এখন পর কে লোলুভ থাবায় করবে পীড়িত।

এরাতো নিজ পরিচয়ের দম্ভে পারেনা কাঁদামাটিতে হাঁটতে,

সমাজে এদের সম্মান ভয়গ্রস্ত রুগ্ন মনের স্বার্থে।

এরা হোঁচট খায় আলোক রশ্মির বর্ণছটা দেখে,

তাদের চোখে অন্ধত্ব নেমে আসে, জ্ঞানের ঐশ্বর্যে।


আমি তো, ধনী বলি তাকে, যার অন্তরে নাই প্রতিহিংসার অনল,

যে আত্মতুষ্ট, সম্মানের ভূয়া মুখোশের সামনেও নির্ভীক, অটল।

যাকে সহজে খুঁজে পাবে না এত রকমের লোকের ভীড়ে,

যে নীরবে বাঁচে, মৃত্যু হয় যার অনারম্বর আর সুখ ঘীরে।

সেই সব সত্যিকারের ধনী ব্যক্তিরা সমাজের পিলার,

যাকে দেখা যায় না, চুপিসারে রচনা করে আলোর ভিত্তি-প্রস্তর।

তাদের জন্যই বুকের গভীর থেকে প্রার্থনারা জেগে ওঠে,

তারা ভালোবাসে, ভালোবাসতে শেখায় বিশ্ব জনতাকে।



রচনা: শাম্মী আক্তার (মনোবিদ)

রচনাকাল: ০৩.০৫.২০১২

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিশ্ব সংসার

myL

বক্তব্য