মানব সর্বশ্রেষ্ঠ




কেউ যদি আমার কাছে জানতে চায় 'জীবন আসলে কি?' আমি বলব। সামনে এগিয়ে যাওয়াই জীবন। ব্যর্থতা আর সফলতার হিসাব কষতে গিয়ে যদি ব্যর্থতার পাল্লা অনেক বেশী ভারিও হয় তবু থেমে না থেকে , আরও উদ্যমে সামনের পথকে পাড়ি দেয়া জীবন। হোঁচট না খেলে উঠে দাঁড়াবার শক্তি কার কতটুকু আছে বুঝবো কিভাবে। পথ বন্ধুর না হলে সৃষ্টিকর্তা কতটা প্রাণশক্তিতে এ জীবন সমৃদ্ধ করেছে তা বুঝবো কি করে। 

মানবজাতির অনেকগুলো দুর্বল বৈশিষ্টের একটা হল অল্পতেই হতাশ হয়ে যাওয়া। এই অল্পের সংজ্ঞা আবার একেকজনের কাছে একেক রকম। আমরা সবাই জীবনে মাঝে মাঝে হতাশা অনুভব করি। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা হতাশা থেকে পুনরায় পুনরুজ্জীবিত হওয়ার উৎসাহ পান। আবার আমাদের মধ্যে কেউ কেউ ঐ হতাশাকে আঁকড়ে পড়ে থাকেন।

এখন প্রশ্ন হল এই হতশাজনক বিষয়টি কেন আসে। এর অনেক কারণ থাকলেও একেকজনের কাছে কারণগুলো একেকভাবে প্রভাব ফেলে তাই সঠিক কোন প্রতিউত্তর আমার জানা নেই। আমার বক্তব্য এ ব্যাপারে একেবারেই সোজা সাপ্টা, তা হল জীবনটা একটা সরলরেখার মত কখনই চলে না। এটা কে জীবনের গ্রাউন্ড রুলস বলা চলে। কারণ প্রত্যেকটা জীবনের চরাই উতরাই থাকবে। কারোটা প্রলম্বিত হবে তো কারোটা সংক্ষিপ্ত। কিন্তু উত্থান পতন থাকবেই। এ কারনে জীবনে হতাশাজনক কিছু যে ঘটবেই সেটা স্বাভাবিক। তো কেন তবে আমাকে আমি পূর্ব প্রস্তুতি দিব না? 

অন্তত নিজের ব্যাপারে আমরা কম বেশী সবাই সচেতন। তাহলে যা আমাকে হতাশাগ্রস্ত করছে বা করতে পারে সেটার আগমন যদি অবশ্যম্ভাবী হয় সেটা জেনে আমাকেও একটা প্রস্তুতি রাখতে হবে। হতে পারে এ প্রস্তুতির সাথে ঘটনা হুবহু মিলবে না, হতে পারে ঘটনা প্রস্তুতি এর চাইতেও বিশাল ধাক্কার, তবু যেহেতু পূর্বে ধারণা সম্বলিত থাকবে সেহেতু এটি কোননা কোনভাবে উপকারী।

আমি অন্যদেরটা বলতে পারব না। তবে নিজ প্রস্তুতিটা যদি বলি তাহলে বলব, ঘটনার মুখোমুখি হতে আমি ভয় পাইনা। কঠিন সত্য মেনে নিতেও আমার দুর্বলতা কাজ করেনা। অন্যান্য আর সব মানুষের মতই কিছুটা সময় বিষন্নতা বা হতাশা কাজ করে, তবে মজার ব্যাপার হল সেটা মুহূর্তের মধ্যেই উড়ে গিয়ে আমাকে আলোকিত একটা ভোরের মুখোমুখি রেখে যায়। যে ভোরটা একদম নতুন একটা সূর্যালোকে আমাকে অভিবাদন জানায়। যে দিনটা কর্মব্যস্ত ও উদ্যমী হয়ে আমার সামনে পরিস্ফুটিত হয়। আর আমি?

আমি প্রানবন্ত একটা সবুজ পাতার মত নড়েচড়ে বসি, যা এতটাই সবুজ যে তা জীবনে তারুণ্যের প্রাচুর্যতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আমার মধ্যে অনেক মানসিক শক্তির প্রণোদনা জমতে থাকে। আমি এর সাথে আমার সত্ত্বার একটা অমোঘ আদান প্রদান অনুভব করি। আমি বর্তমানটাকেই আঁকড়ে ধরি। অতীত আমাকে অনেক রকম তথ্য, শিক্ষা ও মণনে পরিপূর্ণতা দেয়। বোধশক্তিকে জাগ্রত রাখে। আর অপরদিকে ভবিষ্যৎ আমার জন্য কোন দুরূহ কিছু হয়ে নয় বরং অনেকটা দূর থেকে ভেসে আসা প্রেরণা সঙ্গীতের মত মূর্ছনা দেয়।

ফলশ্রুতিতে এই আমি স্রষ্টার অশেষ কৃপায় বর্তমানের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখি অত্যন্ত সন্তর্পণে। যেখানে হতাশা মিলিয়ে গেছে অনেক আগেই। যেখানে আশা আর প্রত্যাশারা কয়েকগুণ মানবীয় শক্তি দিয়ে আমার অন্তরকে মনোযোগ ও প্রখরতায় নিবিষ্ট করে। তাই আমাকে যেমন দয়াময়ের নিকট শীর লুটাতেই হয় তেমনি চলার পথে দৃঢ় হাতে করণের উপযুক্ত হাতল ধরতে হয়। হোক না ক্ষণিক দুর্বিষহ, আমিই তো মানব।

মানব ই তো পারে সমস্ত অর্গলকে, বিপত্তিকে ঠেলে সামনের দিকে অগ্রসর হতে।

আমি মানব, তুমি মানব, জগতে আমরাই তো সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ। 


-লেখা

শাম্মী আক্তার 






মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিশ্ব সংসার

myL

বক্তব্য